মালদা জেলা পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছে জেলা তৃণমূল - The News Lion

মালদা জেলা পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছে জেলা তৃণমূল

 


দি নিউজ লায়ন;    মালদা জেলা পরিষদ তৃণমূলের দখলেই থাকছে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন জেলা সভানেত্রী সৌসম নুর। তিনি বলেন, সংখ্যা গরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই মালদা জেলা পরিষদ তৃণমূলের দখলেই থাকবে।  তবে সভাধিপতি কে হবেন, তা নিয়েই এখনই স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয় নি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ১৪ জন সদস্য নিয়ে বিজেপি-‌তে যোগ দেন সভাধিপতি গৌড় মন্ডল। সভাধিপতি দল ত্যাগের পর পরই বিজেপি-‌র তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল, মালদা জেলা পরিষদ তাদের তখলেই চলে গেছে। ৩৮ আসনের মালদা জেলা পরিষদের ৬টি পেয়েছিল বিজেপি। 


২টি পায় কংগ্রেস। ২৯টি পায় তৃণমূল। একটি আসনে ভোট হয় নি। বিধানসভা ভোটের আগে দল ছাড়ার পর গৌর মন্ডল দাবি করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে ১৪ জন সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া বিজেপি-‌র রয়েছেন ৬ জন। ফলে মালদা জেলা পরিষদ বিজেপি-‌র হাতেই চলে গেছে। এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা সভানেত্রী মৌসম নুর স্পষ্টভাবে জানান, ‘‌৩৭ আসনের জেলা পরিষদের ম্যাজিক ফিগার ১৯। ইতিমধ্যে আমাদের দখলে রয়েছে ২৩-‌২৪ জন। 


যেহেতু এখন কড়ি বিধিনিষেধ চলছে। তা উঠে গেলে আমরা ১৫ মে-‌র পর অনাস্থার প্রস্তাব আনতে পারি। ইতিমধ্যে রাজ নেতৃত্বদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁরা সবুজ সংকেত দিয়েছেন। জেলা পরিষদ আমাদের দখলেই থাকবে।’‌ অন্যদিকে বিজেপি প্রোপাগন্ডা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে, অনাস্থা প্রস্তাব আনলে তাদের দখলে চলে আসছে জেলা পরিষদ। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সৌসম নুর বলেন, ‘‌সভাধিপতি গৌর মন্ডল যখন বিজেপি-‌তে যোগদান করেন, তখন থেকেই আমরা বলে এসেছি ২২-‌২৩টি আসন আমাদের দখলে। সুতরাং তাদের প্রোপাগন্ডায় কান দিয়ে কোনও কাজ নেই।’‌ 


এর মধ্যে বিজেপি-‌তে যাওয়ার দলবদলুরা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করছেন। তাঁরা আবার ফিরে আসতে চান তৃণমূলেই। কর্মাধ্যক্ষ সরলা মুর্মু-‌সহ অন্যান্য সদস্যরা রয়েছেন সেই দলে। এ প্রসঙ্গে জেলা সভানেত্রী বলেন, ‘‌দলকে ক্ষতির মুখে ফেলে দিয়ে যাঁরা বিজেপি-‌তে গেছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই আবার ফিরে আসতে চাইছেন। কিন্তু সেই গদ্দার, বেইমানদের দলে ফেরানোর ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’‌ 


এদিন জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ নিয়ে আলোচনা করতে জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র ও পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান জেলা তৃণমূল নেতৃত্বরা। সেই দলে রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম নুর যেমন ছিলেন, তেমনই ছিলেন মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র, চন্দনা সরকার, আব্দুর রহিম বকসি ও তাজমুর হোসেন। নিজ নিজ বিধানসভা কেন্দ্রে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান-‌সহ প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সরকারি সাহায্য করার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শহরের জল নিকাশি ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.